ঢাকা, রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
আপডেট : ৪ জুন, ২০২১ ২০:০৭

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার হতে চলছে

মোঃ মেহেদী হাসান (গাজীপুর)
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার হতে চলছে

ঢাকার অদূরে গাজীপুর চৌরাস্তা নাওজোর মৌজায় অবস্থীত বাসন থানাধীন বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ গাজীপুরের রয়েছে প্রায় ১৬ একর সম্পত্তি। যাহা বিগত অনেক বছর যাবত ভুমিদস্যুদের বেদখলে রয়েছে। সওজ (গাজীপুর) কর্তৃক তাদের বিভিন্ন নোটিশ করলেও দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা।সওজ বিভাগ উচ্ছেদের চেষ্টা করলেও তাহা ব্যর্থ হয়। কারণ, জমির কিছু দখলদার মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট (মামলা) পিটিশন (নং ১৪৬৫৪) দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ উচ্ছেদের স্থগিত আদেশ দেয়। সওজ বিভাগকে নাম জারি করার জন্য আদেশ দেয়। সওজ বিভাগ নাম জারি করার পর উচ্ছেদ এর প্রস্তুতি নিলে অবৈধ দখলদাররা আবার রিট (মামলা) করেন। যাহা রিট পিটিশন নং ১৩৯৩৩/২০১৯ এবং ১৩৯৩৪/২০১৯ । উল্লেখ্য, অবৈধ দখলদারেরার বিভিন্ন দাগে রিট করেন। উপরে উল্লেখিত সম্পত্তি ভোগ দখল করেন এক জন। কিন্তুু আরেকজন রিট করেন সরকারি সম্পত্তি নিয়ে। উচ্ছেদ প্রতিহত করার জন্য একই সম্পত্তি নিয়ে বেনামে রিট করেন। ইতিমধ্যে রিট করেন চার চার বার। সর্বশেষ রিট পিটিশনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সরকারি স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে সীমানা নির্ধারণ করার জন্য জেলা প্রশাসক (গাজীপুর) কে আদেশ করেন। জেলা প্রশাসক আদেশটি কার্যকর করার জন্য উপজেলা সদর ভূমি অফিস (গাজীপুর) কে প্রেরন করেন। উপজেলা ভূমি অফিস গত ১৭/৫/২১তারিখে জেলা প্রশাসকের অফিস বরাবর প্রেরন করেন। বহুল আলোচিত উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা গত চার বছর ধরে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করে চলেছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে জমির মালিক গাজীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধ দখলদাররা বিগত ৫০বছর দখল করে রেখেছে। গাজীপুর সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুদ্দিনের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিক মহল সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে চলেছেন। আমাদের জমি উদ্ধার করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসকের অফিস সহযোগিতা করলে অল্পকিছু দিনের মধ্যে আমার অফিস জমি উদ্ধার করবে। জেলা প্রশাসকের অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়, গত নভেম্বও ২০২০ইং এ অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ওসিউজ্জামান কে নিয়োগ করা হয়। তবে হাইকোর্টে রিট( মামলা) থাকার কারণে বর্তমানে তা তিনি উচ্ছেদ করতে পারছেন না। গত ১৭/৫/২১ তারিখ এ প্রতিবেদন দিলেও তা এখন রয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর দপ্তরে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),গাজীপুর মশিউর রহমান মূলতঃ সরকারী এ জমি উদ্ধার করতে শুরু থেকেই যারপরনাই সহযোগিতা কওে চলেছেন বলেও জানা যায়। গাজীপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাকালে তারা জানায়, মশিউর রহমান সরকারের রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে সব সময় নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। উল্লেখিত জমির নামজারি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল কাজ তার সহযোগিতায় হয়েছে। গত ৩/৬/২১ইং তারিখে তার সাথে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ৫/৬/২১ইং তারিখে একটি শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে সব সময় থাকবেন বলেও আশ^স্ত করেন তিনি। সেসময় গণমাধ্যমকর্মীরাও তার এ পথ চলার সঙ্গী হতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জনগনসহ সমাজের সবৃস্তরের মানুষ মনে করেন যদি অবৈধ দখলদারেরা একাধিক শুনানীর সময় পেয়ে যায় তাহলে অবৈধ দখলদাররা বারবার সময় চেয়ে কালক্ষেপণ করতে পারে। তারা কিছুতেই সরকারের পক্ষে থাকবেনা। উচ্ছেদ প্রতিহত করতে সব চেষ্টাই করবেন তারা। তাদের কালক্ষেপনের কারণেই গত সাত মাস সময় লেগেছিল সদর উপজেলা ভূমি অফিস (গাজীপুর) এর প্রতিবেদন জমা দিতে। এবারও সহজে সমাধান চাইবেনা তারা। সরকারের দক্ষ এবং সৎ একজন কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সহযোগিতায় দুষ্কৃতিকারীরা আর কোন টালবাহানা করতে পারবে না বলে স্থানীয়দের ধারণা। সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে সব ধরণের সহযোগিতা করবেন তিনি। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাংবাদিক মহল। কেননা, ইতোপূর্বে সাংবাদিকদের অনেক হুমকী-ধামকী দিয়েছেন অবৈধ দখলদাররা । শুনানী কম করে, সরাসরি দখলমুক্ত করার আদেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এ প্রসঙ্গটি রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হাফিজা জেসমিনের দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি জানান, “ যেহেতু সরেজমিনে তদন্ত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেহেতু অতি তাড়াতাড়ি সম্যসার সমাধান করা যাবে। অবৈধ দখলদারদের কালো টাকা এবং পেশিশক্তির সব বাঁধা পেরিয়ে উদ্ধার হবে সরকারী সম্পত্তি? নাকী আবারো চলবে কোন যোগসাজশ। এমনটি আশংকা অধিকাংশ স্থানীয় জনগনের। গাজীপুরের আপামর জনসাধারণ তাকিয়ে আছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)’ র মুখপানে।

উপরে